কবিতা => লিপিকর ও রাজ মণ্ডল

বাদল পূর্ণিমার ভিলানেল

লিপিকর


বাদল পূর্ণিমা, বড়ই বড় চাঁদ

নাছোড় মেঘেরাও, কে কাটে কাকে

ব্যস্ত নিশীথ, তবু ব্যাপ্ত অবসাদ

নিওন-পৃথিবী; সাজানো যত ফাঁদ

দেখে কি শহর? হোর্ডিং-এর ফাঁকে

বাদল পূর্ণিমা, বড়ই বড় চাঁদ

 

ফোনের পর্দায় ‘মজা’নো চেনা স্বাদ

আঙুলে বিশ্ব, তাও একাকী অ-বাকে

ব্যস্ত নিশীথ, তবু ব্যাপ্ত অবসাদ

কখনো পেরোলে ভাঙতে পারা বাঁধ

আকাশে খুঁজে নিও নিজেরই দেখাকে

বাদল পূর্ণিমা, বড়ই বড় চাঁদ

 অধরা থেকে গেল সকল যে সাধ

ডুবে যাওয়া কাল অপচয়েরই পাঁকে

ব্যস্ত নিশীথ, তবু ব্যাপ্ত অবসাদ

লহমা সাথী হলে, ভালোও বেসো তাকে

চেনাবে সেই তোমার একান্ত একা-কে

বাদল পূর্ণিমা, বড়ই বড় চাঁদ

ব্যস্ত নিশীথ, তবু ব্যাপ্ত অবসাদ

 

—:  বিক্ষোভ  :—

রাজ মণ্ডল


একদিন এক প্রতিবাদ মিছিলে

সদর্পে হাঁটছি অগ্ৰভাগে—

স্লোগান তুলছি তালে তালে।

মুখরিত চারিদিক স্লোগানে স্লোগানে

মাথা নত করব না স্বৈরাচারী শাসনে।

গদি তোদের যাবেই চলে

জায়গা তোদের হবেই জেলে।

 হঠাৎ দেখি বিশাল পুলিশ বাহিনী

সঙ্গে অগুনতি গুণ্ডা দুষ্কৃতী

ঝাঁপিয়ে পড়ে মিছিলের উপর।

টিয়ার গ্যাসের সাথে সাথে

করে বেধরক লাঠি চার্জ—

এরাই যে স্বৈরাচারী শাসকের

রক্ষাকারী ভগবান।

এদেরই ঐ বিপুল চার্জে

সেদিনের সাধারণ জনগণের

বিশাল ঐ মিছিল হয় খান খান।

প্রাণভয়ে ছোটে যে যেদিকে পারে

আমি পড়ি  লুটিয়ে

রাস্তার মাঝে অচেতন হয়ে।

যখন চেতনা আসে ফিরে

হাসপাতালের বিশাল একটা ঘরে

অনেকেরই সাথে

সর্বাঙ্গ ব্যাণ্ডেজ মোড়া

নিস্তেজ আছি পড়ে।

জেনেছি গুলিও চালিয়েছে

পুলিশ নাকি ঐ গুণ্ডা বাহিনী?

তবে অনেকেই পড়েছে ঢলে

মৃত্যুর কবলে !

বেঁচে গেছি হয়তো ভাগ্যবলে!

যৌবনে এখনও প্রবেশ করিনি

রয়েছে কিশোরত্বের ছাপ—

বিদ্রোহী মন সেভাবে জাগেনি

বুঝিনি ভিতরের উত্তাপ।

তবে ঐ উত্তাপ থেকে উদ্ভূত

আগুনের হবেই বিকাশ—

অঙ্কুরেই হবেনা বিনাশ।

তোরা ভুল ভেবেছিস—

এইটুকু আঘাতেই পড়বো না ভেঙে

আমার মতো হাজারো বিদ্রোহী মন

হবে দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর

হানবে আঘাত কঠোরতর।

বিদ্রহ-আগুনের লেলিহান শিখায়

সমস্ত স্বৈরাচারী পুড়ে হবে ছাই।

সেইদিন আর বেশি দূরে নয়

                                অভিজ্ঞজন মানিবে নিশ্চয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post