সম্প্রীতি রক্ষা => শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

 

সম্প্রীতি রক্ষা

 শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়


গয়েশ মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রায়ই মুরগী, গাছের ফল, সব্জি খোওয়া যায়। গয়েশবাবুর ছেলে টুকুন বেশ কয়েকবার বাবাকে জানিয়েছে, পাশের বাড়ির লালু আর তার ছোটোভাই শানু মাঝরাতে কিংবা কাকভোরে গাছে চড়ে ফলপাকুড় পেড়ে নিয়ে যায়, বাগানের সব্জি তুলে নেয়। মুরগীর ঘরে তালা দেওয়া থাকলেও মুরগী ধরে ফেলার কোঁকড়কোঁ তার কানে এসেছে।

গয়েশবাবু একটু আধটু বাড়ির মধ্যেই ক্ষোভপ্রকাশ করে চুপ করে গেছেন। ছেলে লালু আর শানুর বাবাকে নালিশ করার কথা তোলা মাত্র দাবড়েছেন, “একদম না। প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়া কিছু বলবি না। ইমানুল আমাদের প্রতিবেশী।”

বাবা, আমি মোবাইলে ছবি তুলে রেখেছি। সেটাও কি প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়? তুমি ভালো করেই জানো কারা করছে, তবু…”

“শিগগির ডিলিট কর। দিব্যি পাশাপাশি আছি। শুধু-শুধু ঘাঁটানোর কী দরকার? কয়েকটা বাচ্চা ছেলের দুষ্টুমির জন্য কেউ নিজের পড়শীর সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করা। ওগুলো কারা স্পষ্ট নয়। ডিলিট কর।

স্পষ্ট নয় তো ডিলিট করতে বলছ কেন? দূর থেকে হলেও জুম করে তুলেছি। স্পষ্ট চেনা যাচ্ছে। একটা ছবিতে লালু-শানু ছাড়াও আলি আর হাসানকেও দেখা যাচ্ছে।”

“চুপ চুপ! শেষে বলবে স্পাইং করছি আমরা…”

“চুরি করলে দোষ নয়, আর পাহারা দিলে দোষ? এক্ষুণি বললে প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়া চলবে না, এখন বলছ প্রমাণ ডিলিট কর।”

“আহ টকুন! বড্ড বাজে বকিস। এই দেশে এই রাজ্যে, তাও আবার বর্ডার এলাকায় একটু অ্যাডজাস্ট করে চলতে হয়। বাদ দে।”

“বাবা, এটা বাংলাদেশ নয়, ভারত। পাকিস্তান বাংলাদেশে মানুষ অ্যাডজাস্ট করে থেকেও মরছে। কিন্তু এই দেশেও যদি আমাদের এত কম্প্রোমাইজ় করে এত ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়, তাহলে আর কিছু বলার নেই।

এই কথাগুলো টুকুনের নয়, তার ছোটোবোন মৌয়ের।

ছেলেমেয়েরা বলবে কী, গয়েশবাবু নিজের চোখেই তো কয়েকবার পড়েছে ইমানুল-পুত্র ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের কীর্তি। কিন্তু গ্রামের প্রধান-উপপ্রধান বা পার্টির কোনও মাতব্বরের কাছে কথায় কথায় এসব চুরু-চামারির কথা গল্পের ছলেও বলে ফেললে নিজেকেই এমন অপদস্থ হতে হয়, যে ছেলেছোকরার কাজ ভেবে উপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। এত সামান্য ব্যাপারে নালিশ করা যায় না, প্রতিবেশীদের শালিসিও ‘এ্যাই পপ’ বলে ক্ষমা করার পক্ষে।

অনন্যোপায় হয়ে ক্ষমা করেই তো চালাচ্ছিলেন। কিন্তু চুরিটার ক্রমশ পদন্নোতি হতে থাকল — ফল-পাকুড় মুরগী থেকে জলের পাম্প, সাইকেল, গোরু ইত্যাদি। বাধ্য হয়ে একদিন থানায় গেলেন। কন্যা মৌও সঙ্গে গেল, “আমারও অনেক কিছু বলার আছে। লালুরা দল বেঁধে আমাকেও বেশ কিছুদিন ধরে ডিস্টার্ব করছে।”

থানায় মেজকর্তা বলল, “লালু ও শানুর ভালো নাম?”

“বিলাল ও শাহীন।”

“তবে ডাকনাম লিখেছেন কেন?”

আজ্ঞে ওটা ঠিক… পাশের বাড়ি তো, ঐ নামেই ডাকি?”

“তাহলে আলি ও হাসানেরও ডাকনাম লিখুন।”

“ওদেরটা জানি না স্যার। যে নামই লিখি চুরিটা...”

 “চুরি বলছেন কীসের ভিত্তিতে? আপনারাই ওদের পাম্পসেট চুরি করে আননেনি, প্রমাণ কী? ওরা হয়তো নিজেদের জিনিসই নিয়ে গেছে।

না স্যার! আপনি বিশ্বাস করুন। আমাদের গোরুটাকে ছেড়ে দিয়ে দেখুন ও কোথায় ফেরে।

“চোপ! সেই গোরুর রচনা লিখতে বসলেন তো। গোরুর বাচ্চারা দেশ চালালে এই হয়।গয়েশবাবুর আবেদনপত্রটি ছিঁড়ে দলাপাকিয়ে বাজে কাগজের ঝাঁপিতে ফেলে দিল অ্যাসিটেন্ট সাব-ইন্সপেক্টর কল্যাণ মিত্র।

গয়েশবাবু অপমানিত হয়ে চলে আসছিলেন। এবার গলা তুলল মৌ, “আমাকেও কলেজ যাতায়াতের পথে ঘিরে ধরে ওরা কখনও প্রেমের প্রস্তাব দেয় তো কখনও বিয়ের, আর আমি না শোনার ভান করে চলে যেতে চাইলে রীতিমতো শাসায় -- মানে আমার বিপদ হবে।”

“ওরা মানে কারা? ওরা বললে কী বুঝব? নাম কী ওদের?”

“বিলাল, শাহীন, আলি, হাসান, মকবুল এই কজনের নাম জানি। আরও দু-একজন থাকে মাঝেমাঝে। ওদের নাম জানি না। দেখলে চিনতে পারব।”

“কিন্তু নাম তো সবার চাই। একই দুষ্টুমি করে দু’জনের শান্তি হবে, দু’জনের হবে না, এমন বৈষম্য তো করতে পারি না। সবার নাম জেনে এসে রিপোর্ট লিখিও। অবশ্যই রিপোর্ট নেব। অ্যাই হরেন, কতক্ষণ লাগবে তোমার? স্যর চলে এল বলে।”

“স্যর, যাদের নাম বললাম, তারাই রোজ মানে প্রায় দিন রাস্তা আটকায়, বাজে ইশারা করে। এদের নামেই কমপ্লেইন করতে চাই। বাকি দু-একজন মাঝেমাঝে থাকে ওদের সঙ্গে, আমাকে রেগুলার ডিস্টার্ব করে না। তাই ওদের নামে …”

“বাকি দু’জন না একজন? ঠিক করে বলো।”

“ওদের নামে তো অভিযোগ করছি না, আমি পাঁচজনের নাম বলেছি।”

“হয়েছে হয়েছে। নামগুলো কী বললে যেন —”

“বিলাল ডাকনাম লালু, শাহীন বা শানু, আলি, হাসান আর আর ইয়ে মকবুল…”

“বাব্বা! নামগুলো তো জিভের আগায়? ভালো মেলামেশা আছে দেখছি। কী করা হয় ওদের সঙ্গে?”

গয়েশবাবু মেয়ের হাত ধরে টানলেন। বড়োবাবু নেই। থাকলেও লাভ হত বলে মনে হয় না। মেয়েকে বললেন, “ছাড়, এখানে কমপ্লেন নেওয়া হবে না। আমাকে অপমান — আমি অপমানিত হলাম, তুই আরও বেশি হবি। বাড়ি চ।”

“কে আপনাকে অপমান করল গয়েশবাবু? আপনি কিন্তু আমাকে অপমান করছেন এবার। আমি বলেছি আপনার মেয়ের কমপ্লেইন নেব না? এফআইআর লিখতে গেলে তো ভালো করে জানতে হবে যাতে পরে কেস কেঁচিয়ে না যায়। পরে যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তখন কি সেটা আপনার মেয়ের জন্য ভালো হবে নাকি আপনার জন্য? হ্যাঁ তা কী বলছিলাম? ওদের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় মেলামেশা কতদূর?”

“লালু বা শানু পাশের বাড়ির ইমানুল চাচার ছেলে। বেশ কয়েক বছর ধরে দেখছি। বাড়িতেও এসেছে বেশ কয়েকবার। বাগানের ফল-সব্জি এটা-সেটা তুলে নিয়ে যেত, গা করিনি। পাম্পমেশিন নিল বাবা তাও জানায়নি, গোরু —“

“তুমিও গোরুতে পৌঁছে গেলে? তার মানে তোমারও আসল সমস্যা ফলমূল, গোরু এটসে্ট্রা। কে নিয়ে যাচ্ছে তোমরা জানো না, জাস্ট আন্দাজে অ্যালিগেশন আনছ, কিংবা অন্য কোনও কারণে খার খেয়ে প্ল্যান করে। আমি প্রমাণ ছাড়া বাজে কথায় কান দিচ্ছি না দেখে ইভটিজ়িং-এর মতো সিরিয়াস কেসে ফাঁসাতে চাইছ ছেলেগুলোকে, তাই তো? হেভি সেয়ানা মাল তুমি।”

বাজে কথা কিন্তু আমরা বলিনি, আপনি আমার সম্পর্কে বলছেন স্যর। ওরা আমাকে রাস্তায় একলা পেলেই বিয়ের কথা বলে, সময় কাটানোর প্রস্তাব দেয়। ওদের জ্বালায় আমার কলেজ যাওয়া-আসা আতঙ্ক হয়ে গেছে।

কল্যাণ মিত্র চোখ মটকে হেসে বলল, “বিয়ের কথা বলছে যখন তুমি নিশ্চয়ই প্রোভোক করেছ। তারপর সামলাতে না পেরে ভিক্টিম সাজছ। আর বিয়ে তো খারাপ না।”

মৌ এবার নিজেই উঠে পড়ে বাবার হাত ধরে বেরিয়ে আসছিল। বড়োবাবু চলে এলেন। এসেই প্রশ্ন করলেন, “কী ব্যাপার কল্যাণ? কী ছিঁড়ে ফেললে?”

কিছু না স্যর। আসলে এরা ডায়রি করতে এসেছে, কিন্তু কোনও বেস নেই। একটা কেস না দাঁড়ালে আরেকটা দিয়ে পড়শিকে ফাঁসাতে চাইছে।”

মেজবাবু নিজের মতো করে বর্ণনা করছিল। ওসি তাকে থামিয়ে গয়েশবাবু আর মৌয়ের কাছে সবটা শুনলেন। তারপর বললেন, “চলুন দেখি।

বেশ পেটানো সুচেহারা সাব-ইন্সপেক্টর ইমরান আলির; দেখলেই সমীহ হয়। নতুন ওসি হয়ে এসেছেন এই থানায়। গয়েশবাবু কৃতজ্ঞচিত্তে তাঁকে নিয়ে বাড়ি এলেন। অত্যন্ত ভদ্র ব্যবহার। বাড়িতে এসে গয়েশের স্ত্রীকে বৌদি বলে সম্বোধন করে তাঁর মুখেও খুঁটিনাটি সব শুনলেন। চা বিস্কুট খেলেন। মৌয়ের পড়াশুনোর ব্যাপারে খোঁজ নিলেন। তারপর গয়েশ, টুকুন ও মৌয়ের সঙ্গে ছোটো বাগানটা ঘুরে দেখতে দেখতে কী কী গাছ, কেমন ফলন ইত্যাদির খোঁজ নিলেন। 

ফুলকপি ও টমেটোর এত প্রশংসা করলেন যে গয়েশবাবুর নির্দেশে দুই পুত্র-কন্যা একটা ফুলকপি ও কেজি খানেক টমেটো তুলে একটা প্লাস্টিকে ভরে দিল। বড়োবাবুর আগ্রহে তাতে আরও তিনটে কপি ও আরও দুই কেজি মতো টমেটো ভরে দিতে হল। বিচরণরত একটা ডবকা মোরগকে খপ করে ধরে গাড়ির চালককে হাঁক দিলেন। তারপর ড্রাইভার আসতে তার হাতে মোরগ ও সব্জি সবশুদ্দু ধরিয়ে দিয়ে গাড়িতে রেখে দিতে বললেন।

      ওদের তিনজনেরই চোখ ছানাবড়া। মুখে বাক্য সরল না। ওসি হাসিমুখে বললেন, “এই যে আপনারা ঘ্যাঁচ করে মুরগার গলা কেটে দেন, তাতে শরীরের সর রক্ত বেরোয় না, শিরায় জমে বিষক্রিয়া হয়। গলার শিরা কেটে পুরো রক্ত বের করে দেওয়াটাই সায়েন্টিফিক। তাতে মাংস নরমও থাকে। খাসিও তাই।”

      কথাগুলো বলতে বলতে তার তীক্ষ্ণ ও লোভাতুর চোখ যেন মৌকে জরিপ করছিল। বলল, “খাসি বানানোর টেকনিক শেখালাম আমরা। আপনারা তো বোকা পাঁঠা খেতেন। কী দুর্গন্ধ — ওয়াক!” শেষ বাক্যদু’টো টুকুনের দিকে তাকিয়ে। তারপর গয়েশকে চমকে দিয়ে বললেন, “দশ হাজার লাগবে।”

      “মানে?” গয়েশবাবুর গলায় বিস্ময়সূচক প্রশ্ন।

      “আপনার প্রবলেম সল্‌ভ্‌ হয়ে যাবে। ছেলেগুলোকে সাইজ় করতে খরচ আছে তো।”

      “কিন্তু স্যার, এটা তো পুলিশের ডিউটি।”

      “আমাকে ডিউটি শেখাচ্ছিস বিটিচো? পেছনে রুল ভরে মুখ দিয়ে বের করব। আর গলা নামিয়ে কথা বলুন। চিরকাল আমরা এই চোখরাঙানি সইব না বুঝেছেন? এই দেশটা কিন্তু আমাদেরও।”

      গয়েশবাবুর মুখখানা অপমানে লাল হবে নাকি ভয়ে ফ্যাকাসে, বুঝে পেল না। বললেন, “ভুল হয়ে গেছে স্যার। আমি ওভাবে বলতে চাইনি… অ্যামাউন্টটা একটু কনসিডার করেন…”

      “তাহলে বিশ হাজার দিন।”

      “বাড়িতে দশ হাজার টাকা ক্যাশ নেই। অনলাইন পে করে দেব?” মৌ পাশ থেকে বলল।

      “আমার সঙ্গে চালাকি হচ্ছে খুকী? অবশ্য ডাগর বয়স পর্যন্ত বিয়ে-শাদী বাচ্চাকাচ্চা কিস্যু নেই, মাথায় তো শয়তান ভর করবেই। আপনাদের বাড়ির মেয়েরা পড়াশুনো শিখে বেশ চালাক-চতুর হয়, কিন্তু তাতে কউম দুর্বল হয়ে যায়।”

      মৌ তীব্র প্রতিবাদস্পৃহায় কিছু বলতে যেতেই তাকে বাবা-দাদা ইশারায় থামাল। ইমরানের চোখ এড়ায়নি। বলল, “তা মামণি লেখাপড়া শিখে কী হবে— কিরণ বেদী হবে নাকি বৈজয়ন্তী সেন? তা তোমার নাম তো মৌ, মৌ মানে তো মধু। মধু খেতে আমি খুব ভালোবাসি – হে-হে-হে!”

      বৈঠকখানায় ফিরে এসে অনেক অনুরোধ-উপরোধে দয়া করে আট হাজার টাকার বিনিময়ে প্রতিকারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে গেল ওসি ইমরান আলি। গাড়ির দরজা খুলে বলল, “প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ভাব রেখে চলুন। পাশাপাশি থেকে এত কমপ্লেন করলে, এত অসহিষ্ণু হলে চলে? একটু অ্যাডজাস্ট করুন, সম্প্রীতি বজায় রাখুন। কোথায় না কোথায় আপনার গোরু পালিয়েছে, ইমানুল সাহেবের মতো নিপাট পরোপোকারী ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে ফলস্ অ্যালিগেশন আনছেন। আসলে আপনারা জাতধর্মের বাইরে বেরোতেই পারেন না।

      গয়েশের বাড়ি থেকে বেরোতেই ইমানুল ইমরানের উদ্দ্যেশ্যে বলল, “আসসালাম আলেকুম ওসি সাহেব।”

      “ওয়ালেকুম সালাম। তারপর সব ঠিকঠাক চলছে তো?”

      “সব আপনার মেহেরাবানি সাহেব। একটু বসবেন না? কথা ছিল কিছু।”

      “কথা তো আমারও ছিল। তা তোমার দুই গুণধর কোথায় –- লালু আর শানু? ভালোনাম বিলাল আর শাহীন তো? কী শুনছি?”

      “সব শোনায় কি কান দিতি আছে? এদিকে আসছেন যখন দুপুরে লাঞ্চ না করিয়ে কিন্তু ছাড়ছি না। আমার পরম সৌভাগ্য, গরীবের ঘরে পায়ের ধূলা পড়ল। অ্যাই সালমা, অ্যাই মনিরা সাহেবের জন্য ডাব নিয়ে আয়। আরেকটু আগে যদি আসতেন ছার, তাহলে খেজুর রস খাওয়াতে পারতাম। পেঁপে খাবা স্যার? পাশের বাগান থেকে… মানে আমার বাগানের পেঁপে, মধুর মতো মিষ্টি। বসেন বসেন। মনিরার হাতে মাংস-ভাত খেয়ে যান। ঘটি-বামুনের মেয়ে ছার, বড়ো মিঠা হাত।”

      “তা জোর করছ যখন… কিন্তু খালি হাতে তো দাওয়াত খাওয়া সভ্যতা নয়। সমীর, অ্যাই সমীর। গাড়ি থেকে মুরগাটা নিয়ে আয়। আর আজ তুইও এখানেই খাস, তোরও নেমন্তন্ন। কী ইমানুল, ঠিক কিনা?”

      “এ আবার জিগ্গেস করার? আপনারই তো বাড়ি ছার, আমরা শুধু খিদমতগার। লালু, যা মুরগাটাকে জবাই করে আন।”

     

নিজেদের পোষা মোরগের চিৎকার শুনে মণ্ডল পরিবার পরস্পরের মুখ চাওয়াচাউয়ি করে। কিন্তু ধরা পড়ার ভয়ে অপরাধীর মতো ঘরের ভেতরেই সিঁধিয়ে থাকে।

      ঘণ্টা দুই পরে গোয়ালে মা-হারানো বাছুরটিকে খাবার দেওয়ার জন্য বাইরে এলেন গয়েশের স্ত্রী ও কন্যা। ওসি সাহেবের স্কর্পিও গাড়িটা তাদের মুখের ওপর সম্প্রীতির ধূলো উড়িয়ে চলে গেল।

     

Post a Comment

Previous Post Next Post