গুচ্ছ কবিতা
সমাদৃত দাস
১) "আশ্চর্য ফেরিঘাট"
শেষ জয়টা যখন তোমার হবে
মনের রঙে রাঙিয়ে দিও হৃদয়খানি
পৃথিবীর এই বিরাট রঙ্গমঞ্চে
আমরা সবাই পরোক্ষ অভিনেতা
দর্শক হয়ে মানুষের খোঁজে
অশান্ত পয় দ্রুত ছুটে যায়
ট্রেনের জানালায় মুখ বার করে
যাত্রীর ঢেউয়ে ভাসমান এক শৃঙ্খল
স্বাধীনতা দেখেনি সে
পরের স্টেশনের নাম জানে না
ধিকধিক করে চিতে বেড়াব
অথচ
গলিটির মুখে অগোছালো প্রত্যাশা
খুঁজে বেড়ায় বিচ্ছেদের ফেরিঘাট!
২) "আড়ালে সত্যতা"
সেসব পথহারা পক্ষীরা
এখনও ভাঙ্গা গলায় গান গায়
তাদের শরীরে রক্ত লুকিয়ে থাকে
শতবরণের ভাবউল্লাসে
মাতাল বাদলের অভিসার
রাগিণীর সুরে মেঘ-সন্ন্যাসীর জটা
চণ্ডালিকার এক নদীর জল
নিজের গর্ভে আগুন স্নান করে
আস্তে আস্তে পথবেলা ফুরোয়
ডানাগুলো খসে পড়ে পাখিটার
নিদারুণ বলে ডানা ঝাপটানোর চেষ্টা
শূন্য থেকে শূন্যতায়
শেষবেলায় লেখা থাকে কাগজের ভাঁজে
লিখতে লিখতে পা চালিয়ে যাই!
৩) "নদীর বাঁকে"
কবিতার বাঁকে নদী লুকিয়ে থাকে
শালবনে থাকার মতো চাঁদ
সেই নদী জোরালো হয়
ছাগল চড়াতে গিয়ে মেয়েটি
নদীর কাছে আসে
কিন্তু কান্নায় একফোঁটা জল ছিল না
মেয়েটি চিৎকার করে
কিন্তু প্রতিটি শব্দে জিভ নেই
আস্তে আস্তে মৃত্যুর ভিতর ঢুকে পড়ে
আচমকা আয়না সমর্পণ করে
নদীটা নিঃস্ব হয়ে হতে শুকিয়ে গেলো।
৪) "বিক্রীত মেরুদন্ড"
একটা ছোট্ট শব্দ
কিন্তু, আচমকা সব চুপ!
জলের বদলে রক্তের হাহাকার
শত্রুতা প্রথম পদক্ষেপ
মানুষ শ্রেষ্ঠজীব
তাই সততা ছেড়ে কপটতা
প্রাণ কেড়ে বাজিমাত করা
মেরুদণ্ডে যেন দাবদাহ হোক
আগুনের গোলা হাতে শপথ নিন
ইজ্জত বিক্রি করব না
অথচ
যারা খেচর তারাও মাটি স্পর্শ করে
তারা মাতৃভাষা বিক্রি করে না!