নেপথ্যে ইতিহাস রচয়িতা এক বাঙালী => অমিতাভ স্থানপতি

 

নেপথ্যে ইতিহাস রচয়িতা এক বাঙালী

অমিতাভ স্থানপতি

 


১৯২৪-এ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাপানে রাসবিহারী বোসের পরিবারের সঙ্গে। রাসবিহারী বোস, ওঁর স্ত্রী তোসিকো সোমা, পুত্র মাসাহিদে বোস, কন্যা টেতসুকো বোস, শ্বশুর আইজো সোমা ও শাশুড়ি কোকো সোমা


এমন একজন মানুষ যিনি নিজে ব্রিটিশ সরকারের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছিলেন, শুধু তাই নয় তাঁর নিরুদ্দিষ্ট হবার অনেক বছর পরে তাঁর চরিত্র অবলম্বনে রচিত উপন্যাসটিও ব্রিটিশ সরকারের ত্রাস হয়ে ওঠে এবং সেই বই ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ করে।

'পথের দাবী' উপন্যাসের গিরিশ মহাপাত্রকে মনে আছে? কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার বর্ণনায় লিখেছেন : "লোকটার বয়স আন্দাজ বত্রিশ-তেত্রিশ, কিন্তু ভারী রোগা। চলিবার সময় হাত দুটি কোলের কাছে গুটাইয়া রাখে কেমন যেন সঙ্কুচিতভাবে ঠিক যেন চোর চোর ভাব। গায়ে ভুর ভুর করছে লেবু তেলের ও আতরের গন্ধ। তাহার ট্যাঁক হইতে একটি টাকা ও গণ্ডা-ছয়েক পয়সা বাহির হইল, পকেট হইতে একটা লোহার কম্পাস, মাপ করিবার কাঠের একটা ফুটবুল, কয়েকটা বিড়ি, একটা দেশলাই ও একটা গাঁজার কলিকা বাহির হইয়া পড়িল।

নিমাইবাবু কহিলেন, তুমি গাঁজা খাও?

লোকটি অসঙ্কোচে জবাব দিল, আজ্ঞে না।

তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?

আজ্ঞে, পথে কুড়িয়ে পেলাম, যদি কারও কাজে লাগে তাই তুলে রেখেচি।

জগদীশবাবু এই সময়ে ঘরে ঢুকিতে নিমাইবাবু হাসিয়া কহিলেন, দেখো জগদীশ, কীরূপ সদাশয় ব্যক্তি ইনি। যদি কারও কাজে লাগে তাই গাঁজার কল্কেটি কুড়িয়ে পকেটে রেখেছেন। ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া কহিলেন, গাঁজা খাবার সমস্ত লক্ষণই তোমাতে বিদ্যমান বাবা, বললেই পারতে, খাই। কিন্তু ক’দিনই বা বাঁচবে, এই তো তোমার দেহ, আর খেয়ো না। বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।

মহাপাত্র মাথা নাড়িয়া অস্বীকার করিয়া বলিল, আজ্ঞে না মাইরি খাইনে। তবে ইয়ার বন্ধু কেউ তৈরি করে দিতে বললে দিই, এই মাত্র! নইলে নিজে খাইনে।

জগদীশবাবু চটিয়া উঠিয়া কহিলেন, দয়ার সাগর! পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে। মিথ্যেবাদী কোথাকার!"

এই অদ্ভুত মানুষটিকে পুলিশ সন্দেহ করার পরেও তার চেহারা ও অভিনয়ে বেকুব হয়ে ছেড়ে দেয়। পথের দাবীতে এই গিরিশ মহাপাত্র চরিত্রটি ছিলেন উপন্যাসের ছদ্মবেশী সব্যসাচী। এবং সব্যসাচী যে মানুষের চরিত্র অবলম্বনে রচিত তিনি হলেন মহান বিপ্লবী রাসবিহারী বোস।

রাসবিহারী বোস চিরকালই আড়ালে থেকে কাজ করে গেছেন। তিনি 1928 এ জাপানে Indian Independence League গঠন করেন। এরই সামরিক শাখা হল আজাদ হিন্দ ফৌজ বা INA যা 1942 তে সিঙ্গাপুরে জাপানের হাতে বন্দী ভারতীয় সৈন্যদের নিয়ে মোহন সিং এর নেতৃত্বে গঠিত হয়। রাসবিহারী বোস 1943 এ Indian Independence League এবং Indian National Army এই দুইয়েরই দায়িত্ব তুলে দেন নেতাজী সুভাষ বোসের হাতে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে দেশে ও বিদেশে  ওনার কর্মকাণ্ড অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও ওনাকে হয়তো   আমরা উপযুক্ত সম্মান দিয়ে স্মরণ করতে পারিনি। কলকাতায় ওনার একটি মাত্র মুর্তি আছে কার্জন পার্কে এবং বড়বাজার ক্যানিং স্ট্রিটের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে বিপ্লবী রাসবিহারী বোস সরণী। এছাড়া কলকাতায় ওনার নামে আর কিছু নেই। 1886 এর 25 May তিনি বর্ধমানে রায়নার সুবলদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি তাঁর বাবার কর্মস্থল চন্দননগরে চলে আসেন ও চন্দন নগর ডুপ্লেক্স কলেজে ভর্তি হন যেটি বর্তমানে কানাইলাল বিদ্যামন্দির। শিক্ষক চারুচন্দ্র রায়ের কাছে তিনি বৈপ্লবিক আদর্শে অনুপ্রেরিত হন। তারপর কলকাতায় এসে ৫০ আমহার্স্ট স্ট্রীটের মর্টন স্কুলে (বর্তমান নাম হিন্দু একাডেমি) ভর্তি হন। কলকাতায় তিনি অনুশীলন সমিতির সদস্য হন ও বিপ্লবী বারিন ঘোষের 36 মুরারীপুকুর রোডের বাড়িতে বোমা তৈরী শেখেন।

একসময় বিহার, উড়িস্যা, আসাম সবই ছিল বাংলার অংশ। 1874 এ আসামকে আলাদা করে Northeast Frontier করা হয়।   কিন্তু 1905 এ লর্ড কার্জন বাংলার বিপ্লব কে দুর্বল করার জন্য  বাংলাকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করেন।  তখন আবার আসামকে   মুসলিম অধ্যুষিত Eastern Bengal এর অংশ করা হয় ও ঢাকাকে ওই অংশের রাজধানী করা হয়। কলকাতাকে রাজধানী করে বাকি অংশকে হিন্দু অংশ Western Bengal করা হয়। সেই সময় 16 October 1905 এ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বিভাজনের বিরুদ্ধে হিন্দু মুসলিম ভাতৃত্বের জন্য রাখী বন্ধনের আয়োজন করেন।  বাংলার মাটি বাংলার জল গানটি সেই দিন উপলক্ষেই রচনা করেন।  এই গানটির প্রথম স্তবকটিই  2023 এ পশ্চিম বঙ্গের বিধানসভায়  রাজ্য সঙ্গীত  হিসেবে অনুমোদিত হয়। প্রথম স্তবকটি হল -

"বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল 

পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান।

বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাইবোন

এক হউক, এক হউক, এক হউক হে ভগবান।"

ব্রিটিশ সরকার বাংলা ভেঙে ভাবলেন এবার বাঙালি বিপ্লবীরা দমে যাবে। এদিকে কলকাতার যুগান্তর সমিতি তাদের জন্য অন্য আয়োজন করছিল। ৩০ এপ্রিল ১৯০৮-এ মুজ্জফরপুরে খুদিরাম বোস ও প্রফুল্ল চাকী কিংসফোর্ডকে বোমা মারার চেষ্টায় ধরা পড়লেন এবং সেই বোমার উৎস সন্ধানে  মানিকতলার মুরারীপুকুরের বাড়ি থেকে শ্রী অরবিন্দ ওনার ভাই বারিন ঘোষ সহ চল্লিশ জন ধরা পড়ল। আলিপুর কোর্টে এই বোমার মামলা হয়েছিল বলে এর নাম আলিপুর বোমা মামলা। এই মামলায় শ্রী অরবিন্দর  হয়ে মামলা লড়লেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস। এর মধ্যে রাসবিহারী বোস থাকলেও তাঁকে ধরা সম্ভব হয়নি। ছদ্মবেশে পারদর্শী  রাসবিহারী বোস বৃটিশ পুলিসের চোখ ফাঁকি দিয়ে কলকাতা থেকে সুদুর দেরাদুনে গিয়ে Forest Research Institute এ ক্লার্কে চাকরি নিলেন এবং দেরাদুনের ঘন্টা ঘরের কাছে পল্টন বাজারের ভেতরে ঘোসি গলিতে থাকতে শুরু করলেন। ঘোসি গলির একটি অংশ বর্তমানে "রাসবিহারী বোস মার্গ"। তিনি দেরাদুনে থাকাকালীন উত্তর ভারতে এবং পাঞ্জাবে বিপ্লবী সংগঠনের কার্যকলাপ চালিয়ে গেলেন।


১৯০৬-এ যুগান্তর সমিতির পার্টি কংগ্রেসে ঋষি অরবিন্দের ভাই বারিন ঘোষ
ও স্বামী বিবেকানন্দর ছোট ভাই ভুপেন্দ্রনাথ দত্ত প্রস্তাবিত যুগান্তর সমিতির পতাকা 

বাংলা ভেঙে  বাঙালির বিপ্লবকে দুর্বল করা সম্ভব ভাবলেও পরিস্থিতি এমন হল যে বাংলায় বৃটিশ বিরোধী বিপ্লবের আগুনে ব্রিটিশ শাসকরা ভয়ে  কলকাতায় থাকা বিপজ্জনক মনে করল। 12 Dec 1911 তে লর্ড হার্ডিঞ্জ এর উদ্যোগে পঞ্চম জর্জ কলকাতা থেকে রাজধানী সরিয়ে দিল্লি নিয়ে গেল। বাংলাকে আবার ভেঙে উড়িস্যা,  বিহারকে ও আসামকে 1912 তে বাংলা থেকে পৃথক করা হল। দিল্লি ও ভারতের কোথাওই ব্রিটিশ শাসকদের জন্য নিরাপদ নয় এই বার্তা দেবার জন্য  রাসবিহারী বোস দেরাদুন থেকে একটি শক্তিশালী lyddite bomb তৈরী করে বসন্ত বিশ্বাসকে নারীর  ছদ্মবেশে দিল্লী পাঠালেন। লীলাবতী নাম নিয়ে তিনি ভীড়ের মধ্যে মিশে গেলেন। ২৩ ডিসেম্বর ১৯১২ তিনি একটি বাড়ির ছাদ থেকে শোভাযাত্রার সময় হাতির ওপর বসা লর্ড হার্ডিঞ্জকে বোমা মারলেন। মাহুত মারা গেলেও লর্ড হার্ডিঞ্জ হাতির পীঠ থেকে নিচে পরে গুরতর আহত হয়েও প্রাণে বেঁচে থাকলেন। বসন্ত বিশ্বাসকে ধরিয়ে দিলে এক লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা হল।  তিনি পাঞ্জাব পালিয়ে গেলেও দু বছর পরে বাবার শ্রাদ্ধের কাজে নবদ্বীপ এসে জ্ঞাতিভাইয়ের বিশ্বাসঘাতকতায় গ্রেপ্তার হলেন ও আম্বালায় তাঁর ফাঁসি হল। রাসবিহারী বোস এই বোমার পেছনে আছেন ব্রিটিশ পুলিশ আন্দাজ করলেও তাঁকে ধরা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

১৯১৩ সালে আমেরিকায়  ভারতের স্বাধীনতার জন্য সোহন সিং এবং লালা হরদয়াল গদর পার্টি তৈরী করলেন।  তার সদর দপ্তর হল সানফ্রান্সিসকোর যুগান্তর ক্লাব। রাসবিহারী বোস পাঞ্জাবে গদর সংগঠনের শাখা গড়ে তুললেন। গদর পার্টি   পাঞ্জাব,বাংলা ও সিঙ্গাপুরে একসঙ্গে  21 February 1915 তারিখে  সিপাহি বিদ্রোহের পরিকল্পনা করল। গদর পার্টির ভেতরের সদস্য  কিরপাল সিং ছিল  ব্রিটিশ গুপ্তচর।  তার কাছে খবর পেয়ে ভারত, কানাডা ও সিঙ্গাপুরের প্রায় সমস্ত গদর সংগঠকদের ব্রিটিশ পুলিশ ধরে ফেলে। পঞ্জাবের ১৯ বছরের করতার সিং সরভা  সহ পয়তাল্লিশ  জনার ফাঁসি হয়, ১১৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও আরও ৯৩ জনের কারাদণ্ড হয়।

বেঙ্গল নেটিভ ইনফেন্ট্রি ভেঙে ব্রিটিশ তৈরী করেছিল 5th light infantry যাদের সিঙ্গাপুরে পাঠান হয়েছিল। সিঙ্গাপুরে সেই বাহিনীর সাতচল্লিশ জন সৈন্যকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হল। এইবারেও এই বিদ্রোহের পেছনের রাসবিহারী বোসের নাগাল পাওয়া গেল না। তিনি দেরাদুন থেকে লুকিয়ে চন্দননগর চলে এলেন। 12 May 1915 তিনি কলকাতা থেকে জাপানি জাহাজ Sanuki Maru তে চেপে পুরোদস্তুর সাহেবী পোশাকে ও সাহেবী আদব কায়দায় সেজে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয় P N Thakur এর ছদ্মনামে জাপান রওনা দিলেন। ব্রিটিশ পুলিশে চোখ এড়িয়ে June 1915তে জাপানের কোবে পৌছলেন। সেখানে প্যান এশিয়ান বিপ্লবের কর্মকর্তা মিৎসুরু তোয়ামার সাহায্যে তাঁর জাপানে থাকার ব্যাবস্থা হল।

রাসবিহারী বোস দেখলেন ব্রিটিশ গুপ্তচরকে এড়িয়ে জাপানে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের কাজ করতে হলে  তাঁকে জাপানি নাগরিকত্ব পেতে হবে। তিনি জাপানি মেয়ে তোশিকো কে বিবাহ করলেন। ধীরে ধীরে তিনি জাপানে তৈরী করলেন Indian Independence Leaugue  এবং এর সামরিক বিভাগ Indian National Army. এই INA বা আজাদ হিন্দ ফৌজের দায়িত্ব তিনি তুলে দেন নেতাজী সুভাসচন্দ্র বোসের হাতে।

জাপানে ওনার বিল্পবের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও একটি বৈপ্লবিক কীর্তি হল বাঙালি মাছের ঝোল ও মুরগির ঝোলকে জাপানে জনপ্রিয় করা, যেগুলো "নাকামুরা কারি" নামে বিখ্যাত। এই নাকামুরা পরিবারেই তিনি আশ্রয় পেয়েছিলেন ও তাদের মেয়েকেই বিয়ে করেছিলেন। এদের নাকামুরা কারি নামের বাঙালি মাছের ঝোল এবং চিকেন কারি যেরকম বিখ্যাত, সেই রকম রেডি টু ইট প্যাকেটে এই মেনু দু'টি বিশেষত চিকেন কারি বিক্রির পরিমানও উল্লেখযোগ্য। এই পরিবারের বেকারি ছিল এবং সেটি পরবর্তী কালে একটি রেস্টুরেন্ট হয়েছিল। তিনিও পরে এই পরিবারের নামেই "বোস নাকামুরা" নামে পরিচিত হতেন। বর্তমানে Shinjuku Nakamuraya Manna টোকিওর একটি দামী ও বিখ্যাত রেস্টুরেন্ট ও পুরো জাপানে তাদের অনেক শাখা আছে। এটি একটি Heritage eatery। এদের নাকামুরা কারি নামের বাঙালি মাছের ঝোল যেরকম বিখ্যাত সেই রকম রেডি টু ইট প্যাকেটে এই মেনুটির বিক্রির পরিমানও উল্লেখযোগ্য।

ভারতে তিনি যুগান্তর ও গদর পার্টির militant বিভাগের প্রধান  কর্মকর্তা  থাকাকালিন তাঁর অনুপ্রেরিত অনেক অগ্নিযুগের বিপ্লবী দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। জাপানে তাঁর  তৈরী  আজাদ হিন্দ ফৌজ যা নেতাজীর পরিচালনায় ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।

টোকিওর ফুচুতে তামা সমাধিক্ষেত্রে (Tama Cemetry) বিপ্লবী রাসবিহারী বোসের সমাধি

মহান বিপ্লবী রাসবিহারী বোসের দেশে ও বিদেশে  কর্মকাণ্ডের হয়তো খুব সামান্যই আমরা জানি। ওনার একপুত্র মাসাহিদে বোস (জন্ম ১৯২০) যার ডাকনাম ভারতচন্দ্র এবং এক কন্যা টেতসুকো (জন্ম ১৯২২ বিবাহের পর টেতসুকো হিগুচি)। রাসবিহারীর স্ত্রী কন্যার জন্মের তিনবছর পরে ২৮ বছর বয়সে মারা যান। পুত্র মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে জাপান সেনবাহিনীর হয়ে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে মারা যান। পুত্রের মৃত্যুতে তিনি মানসিক ও শারীরিক ভাবে ভেঙে পড়েন ও একবছর পরে  ২১ জানুয়ারি ১৯৪৫-এ টোকিওতে তিনি ৫৯ বছর বয়সে টিবি রোগে মারা যান এবং সেখানেই তাঁকে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। টোকিওর  টামা সমাধিক্ষেত্রে ওনার  চিতাভস্মকে সমাধিস্ত করে একটি সমাধিস্তম্ভ করা আছে। ১৯৫৯ সালে ওনার কন্যা পিতার চিতাভস্ম নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। তিনি আজীবন সকলের অলক্ষ্যে অদৃশ্য থেকে ভারতের স্বাধীনতার জন্য নিশঃব্দে কাজ করে গেছেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post