বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পাশে ইজ়রায়েল
সুষুপ্ত পাঠক
![]() |
| ইজ়রায়েলের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার |
আমার অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইসরায়েলের গোপন সহায়তার দলিল ভিত্তিক প্রমাণ ও ফিলিস্তিনসহ আরব দেশগুলোর পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ও কুটনৈতিক সহায়তা নিয়ে একটি কলাম লেখা। আমি বহুদিন ভেবে পাইনি আরবের বুকে ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রটিকে কেন আমরা বিরোধীতা করি? তারা অমানবিক আচরণ করছে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে তাই? তাহলে ১৯৭০ সালে কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’ নামে পরিচিত জর্ডানে ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যা করার পরের বছর ১৯৭১ সালে সেই ফিলিস্তিনি ও ইয়াসির আরাফাত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে দাঁড়ায় কিভাবে? যদি দাঁড়াতে পারে তাহলে আমরা স্রেফ ফিলিস্তিনি ইস্যুতে কেন আমাদের একজন পরীক্ষিত মিত্রকে নিষিদ্ধ করে রাখবো? তথ্য প্রমাণের আলেচনার আগে এইসব কথায় কোন কাজে আসবে না। তাই একটি একটি করে আলোচনা শুরু করা যাক।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত ছাড়া সর্বপ্রথম যে দেশটি বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘে কথা বলেছিল সেই দেশটির নাম ইসরায়েল। আরব দেশগুলোর সঙ্গে নানা রকম সম্পর্কের কারণে ভারত তখনো ইসরায়েলের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন শুরু না করলেও গোপনে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল। ফলে গোপনেই তারা ভারতের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল। ইসরায়েল তাদের রেডক্রস যা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ নামে পরিচিত তার মাধ্যমে ভারতে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে জরুরী ঔষধপত্র পাঠিয়েছিল। যার মধ্যে কলেরার টিকা ও এন্টিবায়োটিক ছিল অন্যতম। শরণার্থী শিবিরে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে মহামারী আকার নিলে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরের প্রতি স্থানীয়দের মনোভাব বিগড়ে যেতে পারতো। মরতে হতো লক্ষ লক্ষ মানুষকে। আমাদের ইতিহাসে ইসরায়েলের এই সহায়তার স্বীকৃতি নেই কেন?
রণাঙ্গনে যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চিকিত্সা সরঞ্জাম, কিট, ফিল্ড হাসপাতালের সরঞ্জাম ইসরায়েল হতে এসেছিল। জাফরুল্লাহ চৌধুরী এই ফিল্ড হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত ছিল শরণার্থী শিবিরে। তিনি কি জানতেন না এইসব সরঞ্জাম কোথা থেকে আসছে? কিন্তু কোনদিন মুখ খুলেননি!
শুধু ভারতীয় নাগরিকদের চাঁদায় শরণার্থী শিবিরের মানুষের মুখে অন্ন জুটেছিল তা নয়, কেবল ঋত্বিক ঘটকই চাঁদা তুলেছিলেন তাও নয়, আমাদের ইতিহাস জানতে দেয়নি ইসরায়েলের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ও সাধারণ নাগরিকরা বাংলাদেশের জন্য চাঁদা তুলে ১ লক্ষ ইসরায়েলি লিরা যা ৩০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশের জন্য পাঠানো হয়েছিল। যা দিয়ে শিশু খাদ্য, তাবু ও সাধারণ খাদ্য ক্রয় করা হয়েছিল। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ক্যাম্পাসে ও পথেঘাটে দাঁড়িয়ে এই চাঁদা সংগ্রহ করে। ইসরায়েলি টেলিভিশনে বাংলাদেশের যুদ্ধের চিত্র দেখে সাধারণ মানুষও ত্রাণ দিতে এগিয়ে এসেছিল। ইসরায়েলি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভারতকে গোপনে সরকারী ত্রাণ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু সে ত্রাণ গ্রহণের কথা মুক্তিযুদ্ধের কোন পক্ষই স্বীকার করেনি। কিন্তু আমরা যদি সত্য যাচাই করতে চাই তাহলে ১৯৭১ সালের The Jerusalem Post –এ প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে তাদের সম্পাদকীয় প্রকাশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ত্রাণের জন্য চাঁদা সংগ্রহের নিউজ দেখতে পাবো। রিচার্ড রিড তার গবেষণায় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই মানবিক ও সামরিক সহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
ইসরায়েল থেকে এসেছিল ভারী অস্ত্র যা মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত বিজয় এনে দিতে মূল ভূমিকা নিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন সে সময় নানা বাস্তবতার কারণে ভারতকে অস্ত্র সহায়তা করতে পারছিল না। তখন ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে গোপন বার্তায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার অস্ত্র সরবরাহে অনুমোদন দিয়েছিলেন। যেহেতু ইসরায়েলের সঙ্গে তখন ভারতের প্রকাশ্য সম্পর্ক নেই এবং আরব দেশগুলোকে চটাতে চাইছিল না, তাই ‘লিচেনস্টাইন’ নামের একটি ছোট্ট দেশের নাম ব্যবহার করে জাহাজে করে অস্ত্রগুলো পাঠানো হয়েছিল।
ইসরায়েলের পাঠানো ১০০ মি.মি. এবং ১২০ মি.মি. মর্টারগুলো ছিল দুর্ভেদ্য পাকিস্তানি বাঙ্কার ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর। ইসরায়েলি কোম্পানি 'সলতাম' এর তৈরি মর্টারগুলো ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত যুদ্ধের ময়দানে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। কিছু নথিতে উজি সাব-মেশিনগান পাঠানোর উল্লেখ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ইসরায়েলী উজি সাব-মেশিনগান ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ইসরায়েল আরো একটি বিধ্বংসী অস্ত্র পাঠিয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম ট্যাংক বিধ্বংসী সরঞ্জাম। পাকিস্তানি প্যাটন ট্যাংক মোকাবিলার জন্য এটা ছিল আধুনিক এক প্রযুক্তি। বি. রমন ছিলেন ‘র’ এর প্রাক্তন কর্মকর্তা তিনি তার 'Kaoboys of R&AW' বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ভারত এই অস্ত্রগুলো কিনতে চেয়েছিল এবং ইসরায়েল তা দ্রুততম সময়ে পাঠিয়েছিল। মেজর জেনারেল হর্ষ মেহতা লিখিত The 1971 Indo-Pak War: A Soldier's Narrative বইতেও ইসরায়েলী অস্ত্র ব্যবহারের কথা বিস্তারিতভাবে আছে। এছাড়া ২০১৩ সালে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে নথি প্রকাশ করে সেখানে দেখা যায় ১৯৭১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পি এন হাকসার ও ইসরায়েলী কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্ত্র সংক্রান্ত যোগাযোগ হয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ‘মুসলিম বিশ্ব’ ছিল পাকিস্তানের নাঙ্গা সমর্থক। ফলে জাতিসংঘে ভারতের পক্ষে কথা বলা ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন জানানোর সেই কঠিন সময়ে ইসরায়েলী পরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বা ইবানের ভূমিকার কথা না বললেই নয়। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশে চলা গণহত্যার বর্ণনা দেন। পাকিস্তানকে হানাদার বাহিনী হিসেবে তুলে ধরেন। ঠিক সেই সময় বাংলাদেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা পাওয়া ফিলিস্তিনিরা কি করেছিল তা এখন দেখার সময় এসেছে।
ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত যে বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যার পক্ষেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং ভারতের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়াকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়দান বলেছিলো এই ইতিহাস যখন বলার চেষ্টা করেছি তখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজনই সবচেয়ে বেশি খিস্তি করেছে। এরা মানতেই চায় না আরাফাত ও ফিলিস্তিনিরা পাকিস্তানের পা চাটতে পারে। এটা প্রমাণিত হলে যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রেম দেখানোতে একটু খামতি থেকে যাবে! শত হলেও উনারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন! কিন্তু "The Blood Telegram: Nixon, Kissinger, and a Forgotten Genocide" লেখক: Gary J. Bass, এই বইয়ে উল্লেখ আছে যে, অধিকাংশ আরব দেশ ও ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাত ও তার পিএলও জাতিসংঘে পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে এবং ভারতকে আক্রমণকারী হিসেবে দেখিয়েছিল। তাদের পাঠানো প্রতিনিধিদের দিয়ে আশ্বস্ত করিয়েছিল। ফিলিস্তিন তখন জাতিসংঘের কোন সদস্য দেশ তো নয়ই, সাধারণ পর্যবেক্ষকও ছিল না। কিন্তু তারা জাতিসংঘের বিভিন্ন অধিবেশনে প্রতিনিধি পাঠিয়ে আরব বা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতো। সেখানেই তারা তাদের কুটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে। গ্যারি জে বাস সেটাই তার বইতে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ নিয়ে ফিলিস্তিনিদের অবস্থান নিয়ে বিতর্কের কোন সুযোগ নেই। যদি তারা বাংলাদেশের পক্ষে থাকতো তাহলে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতো আরো আগেই। অথচ ১৯৭২ সালের ওআইসি সম্মেলনে তারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে তীব্র বিরোধীতা করে।
"Kaoboys of R&AW: Down Memory Lane" লেখক B. Raman (সাবেক 'র' কর্মকর্তা) তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় ফিলিস্তিনি ও আরব গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পাকিস্তানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করত এবং বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের মুভমেন্টের বিরোধিতা করত। "Arafat: From Defender to Dictator" লেখক: Said K. Aburish ও "The Last Days of United Pakistan" লেখক: G.W. Choudhury (তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী) তাদের বইতে উল্লেখ করেছেন আরাফাত ও পিএলও পাকিস্তানী সামরিক জান্তার সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে মনে করতেন। পিএলও এবং আরাফাত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে শক্তিশালী মুসলিম দেশকে দুর্বল করার ভারতীয় চক্রান্ত বলে বিশ্বাস করতেন। আরাফাত এ জন্য আরব বিশ্বে পাকিস্তানের পক্ষে লবিং করেছিলেন বলে বইতে উল্লেখ করা হয়। অথচ এক বছর আগেই জর্ডানের একটা অংশ ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা দখল করে নিলে জর্ডান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে গুলি করে মেরে ফেলে এক অভিযানে। তবু মুসলিম উম্মাহ প্রেম তো মিটে যাবার নয়!
বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে নিয়ে আমার আলোচনার কিছু নেই। কিন্তু স্বাধীনতার পক্ষে ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ফিলিস্তিনি ও সাম্প্রতিক ইরান নিয়ে পিরিতির নেপথ্যে কি কারণ তা কিন্তু আমি জানি! আরাফাত যেমন এক বছরের মধ্যে ১০ হাজার ফিলিস্তিনির খুনিদের হয়ে লবিং করতে পারে তেমনিই বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ইসরায়েলের ভূমিকাকে বাম হাত দিয়ে মুছে ফেলতে পারে একই আইডলজি দিয়েই।
কথায় বলে মুসলমান আধুনিক হলেও সে মুসলমানই! নইলে রেজা শাহ পাহলভী কেন পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে থাকবেন তখন? আরব দেশে একটি দেশ ছিল না যারা মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জন্য দশটি টাকা পাঠিয়ে ছিল! ইরান পাকিস্তানকে জ্বালানি তেল, যুদ্ধবিমান রাখার ঘাঁটি করতে দিয়েছিল। জর্ডানের বাহশাহ হোসেন ছিল ইয়াহিয়ার ব্যক্তিগতভাবে বন্ধু। পাকিস্তানকে জর্ডান যুদ্ধ করতে ১০টি F-104 Starfighter যুদ্ধবিমান দিয়েছিল। কুয়েত ও সৌদি আরব বাংলাদেশে যুদ্ধ করার জন্য কোটি কোটি ডলার পাকিস্তানকে দিয়েছিল। ইরাকের সাদ্দাম হোসেন তখন সোভিয়েত পক্ষে ছিল বলে সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলেনি ঠিকই কিন্তু ওআইসিতে পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিল।
এই সব দেশেগুলো কি উদ্দেশ্য ছিল গণহত্যাকারী পাকিস্তানের পক্ষ নেয়ার? স্রেফ ইসলাম ও মুসলমান ইস্যুই এখানে কাজ করেছিল। ১৯৭৪ সালে ওআইসি সম্মেলনে সৌদি বাদশাহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশ স্বীকৃতি দিতে দুটি শর্ত দিয়েছিল, ১) বাংলাদেশকে একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা, ২) পাকিস্তানের সঙ্গে সব বিরোধ মিটিয়ে ফেলা। এই দুটি শর্ত মুজিব মেনে নেননি বলে ১৫ আগস্ট তার হত্যার আগ পর্যন্ত সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। বঙ্গবন্ধু বাদশাহ ফয়সালের মুখের উপর বলে দিয়েছিলেন-
"মাননীয় বাদশাহ, বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এটি জনগণের ইচ্ছায় চলবে। আমি আমার দেশের কোটি কোটি অমুসলিম নাগরিকের অধিকার কেড়ে নিতে পারি না। আর পাকিস্তানের সাথে আমরা শান্তি চাই, কিন্তু আমাদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।"
মুজিব ও ফয়সালের এই আলাপ সম্পর্কে চারটি বই পাওয়া যায়। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: জীবন ও রাজনীতি’, এবিএম মুসার ‘মুজিব ভাই’, ফারুখ চৌধুরীর ‘স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু’ ও পাকিস্তানের বিশিষ্ট আলেম তকি উসমানী তার উর্দুতে লেখা আত্মজীবনী ‘ইয়াদেন’ বইতে মুজিব ও ফয়সালের মধ্যে মন কষাকষি পরিস্থিতির বর্ণনা করেন। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশীদের হজ পালন নিষিদ্ধ করে রাখে সৌদি আরব। পুরো আরব বিশ্ব, মুসলিম উম্মাহ, প্যান ইসলামিস্ট বিশ্ব কেউ মুজিবকে তাই পাকিস্তান ভাঙার জন্য ক্ষমা করেনি। সেই মুজিব তবু ফিলিস্তিনিদের ভাই ডেকেছে, তাঁর কন্যা ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসংঘে অবস্থান নিয়েছে, সে না হয় বুঝলাম রাজনীতির হিসেব নিকেষ থেকে করা হয়েছে। কিন্তু কথিত মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির লোকজন ইসরায়েল বিষয়ে এই রকম যুক্তিহীন বৈরী কেন? একবার কেউ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ইসরায়েলকে?
ধুর, আমিও যেন কেমন! ভারতকেই কেউ মানে না! বলে, ‘ভারত সাহায্য না করলেও আমার জিততাম, দেরি হইত কিন্তু জিততাম’! তারা স্বীকার করবে ইসরায়েলকে!
(লেখাটি পড়ে কেউ লেখক সম্মানী পাঠাতে চাইলে কমেন্টে দেয়া পেইজ লিংকে গিয়ে মেসেজ করে জানাতে পারেন। তবে গালি দিতে চাইলে সরাসরি আমাকে মেসেজ করলেই চলবে 😅!)
©সুষুপ্ত পাঠক
_cropped.jpg)